সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ০১:৪৩ পূর্বাহ্ন
নোটিশ ::
প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। বিস্তারিত জানতে : 01712-758460 | প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। বিস্তারিত জানতে : 01712-758460 | প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। বিস্তারিত জানতে : 01712-758460 |
শিরোনাম ::
দুদিনের টানা বৃষ্টিপাতে পাহাড়ধসে খাগড়াছড়ি-বাঘাইছড়িতে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ব্যারিস্টার রফিক উল হক মারা গেছেন তেজগাঁওয়ে এপেক্স কারখানায় ভয়াবহ আগুন প্রতি কেজি আলু আজ থেকে ৩৫ টাকা বিক্রি হবে । পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌ-রুটে পারাপারে অপেক্ষায় সহস্রাধিক যানবাহন যাত্রী দুর্ভোগ । মেখল মাদরাসার সাবেক উস্তাদ, প্রবীণ আলেম মুফতি গোলাম কাদেরের ইন্তেকাল ঘরের বাইরে বের হতে মাস্ক ব্যবহার করুন : প্রধানমন্ত্রী স্পিকারের সঙ্গে বাংলাদেশের নব নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার সাক্ষাৎ ফের যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন আলোচিত ইসি মাহবুব তালুকদার নেতানিয়াহুর পদত্যাগ চায় অর্ধেকের বেশি ইসরাইলি!

হলি আর্টিসান বিভীষিকার ৪ বছর আজ

এমসি নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় বুধবার, ১ জুলাই, ২০২০
  • ৯৭ বার পড়া হয়েছে

হলি আর্টিসানে ভয়াবহ হামলার ৪ বছর পূরণ হলো আজ। ২০১৬ সালের পয়লা জুলাই দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ও নৃশংস জঙ্গি হামলায় ইতালির ৯ জন, জাপানের ৭ জন, ভারতীয় একজন ও বাংলাদেশি তিন জন নাগরিকসহ ২২ জনকে হত্যা করেছিল জঙ্গিরা। সেদিন জঙ্গিদের গুলি ও বোমায় আহত হন পুলিশের অনেকে। পরদিন অর্থাৎ ২ জুলাই সকালে সেনা কমান্ডোদের উদ্ধার অভিযানে পাঁচ জঙ্গি ও রেস্তোরাঁর একজন পাচক নিহত হন। এই অভিযানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় শ্বাসরুদ্ধকর জিম্মি দশা।

যা ঘটেছিল ভয়াল সেই রাতে: ‘হলি আর্টিসানে একদল সন্ত্রাসী ঢুকেছে’ এমন সংবাদ পেয়ে এসআই রিপন যখন আর্টিসানে যান তখন রেস্তোরাঁর ভেতর থেকে ‘আল্লাহ্ আকবর’ ধ্বনি শুনতে পান তিনি। এরপরই তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষণ ও বোমা নিক্ষেপ করা হচ্ছিল। একপর্যায়ে এসআই ফারুক হোসেন ও কনস্টেবল প্রদীপ চন্দ্র দাস মারাত্মক আহত হন। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠিয়ে তাৎক্ষণিক ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন এসআই রিপন।

এরপর ঘটনাস্থলে যান তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়াসহ ডিএমপি, র‍্যাবসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের অফিসার ও ফোর্স। কর্ডন করা হয় হলি আর্টিসানকে, নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা হয় গোটা গুলশানকে।

হামলা শুরুর দুই ঘণ্টা পর আনুমানিক রাত সাড়ে ১০টায় সন্ত্রাসীরা আবারও পুলিশ অফিসার ও ফোর্সদের লক্ষ্য করে গ্রেনেড নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণ শুরু করে। এতে অন্তত ২৫ জন পুলিশ মারাত্মক জখমপ্রাপ্ত হয়।

মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে হার মেনে নেন বনানী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালাহউদ্দিন খান। এর কিছুক্ষণ পরই মারা যান ডিবির সহকারী কমিশনার (এসি) মো. রবিউল করিম।

রাত দেড়টায় ইন্টারনেটে হামলাকারী পাঁচ তরুণের ছবি প্রকাশ করে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। ২ জুলাই সকাল আনুমানিক ৭টা ৪০ মিনিট। জিম্মিদের উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করার জন্য অভিযান পরিচালনা করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়ন। ১২ থেকে ১৩ মিনিটের মধ্যেই সব সন্ত্রাসীকে নির্মূল করে ওই এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে তারা। পরে নিহত ২০ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এদের মধ্যে নয়জন ইতালির নাগরিক, সাতজন জাপানের, একজন ভারতের ও তিনজন বাংলাদেশি।

এরপর জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কোমর বেঁধে নামে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। চলে একের পর এক জঙ্গি আস্তানার সন্ধান। গ্রেপ্তার করা হয় প্রায় অর্ধশতাধিক জঙ্গি।

আটকের পর তাদের মুখে উঠে আসে নৃশংস সেই হামলার বর্ণনা। তারা জানায়, প্রায় দেড় বছর আগে পরিকল্পনা এবং দীর্ঘ প্রস্তুতি শেষে নৃশংস এ হামলা সরাসরি বাস্তবায়নে দায়িত্ব দেয়া হয় আত্মঘাতী পাঁচ জঙ্গিকে। আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস’র ভাবধারায় অনুপ্রাণিত হয়ে জেএমবির একটি গ্রুপ বিদেশিদের ওপর হামলার সিদ্ধান্ত নেয় ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে। পরবর্তীতে ‘নব্য জেএমবি’ নামে পরিচিতি পাওয়া এ গ্রুপটির কথিত শুরা কমিটি গাইবান্ধার সাঘাটায় বৈঠক করে এই সিদ্ধান্ত নেয়।

তারা জানায়, হামলার প্রথম ২০ মিনিটেই নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালায়। তারা দেশি-বিদেশিদের গুলি করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে বা গলাকেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে। হত্যার পর ছবি তুলে অ্যাপের মাধ্যমে বাইরে অবস্থানরত নব্য জেএমবির নেতা তামিম চৌধুরী ও মারজানের কাছে পাঠায় তারা। তারা এতটাই নিষ্ঠুর ছিল যে, লাশের সারি মেঝেতে রেখেই খাবার খায়।

দুই বছরের বেশি সময় ধরে তদন্তের পর ২০১৮ সালের ২৩ জুলাই এ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয় ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালত। রায়ে মামলার আট আসামির সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড ও একজনকে বেকসুর খালাস দেন আদালত। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেক আসামিকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানাও করা হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজীব গান্ধী, আসলাম হোসেন ওরফে র্যাশ, আব্দুস সবুর খান, রাকিবুল হাসান রিগ্যান, হাদিসুর রহমান, শরিফুল ইসলাম ওরফে খালেদ এবং মামুনুর রশিদ রিপন। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজানকে বেকসুর খালাস দেন আদালত।

সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
© All rights reserved © 2018 mcnewsbd24.Com
Customized by Mcnewsbd24.Com