বৃহস্পতিবার, ০৬ মে ২০২১, ০৯:৫৯ পূর্বাহ্ন
নোটিশ ::
প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। বিস্তারিত জানতে : 01712-758460 | প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। বিস্তারিত জানতে : 01712-758460 | প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। বিস্তারিত জানতে : 01712-758460 |

মানিকগঞ্জের ধর্ষণের মীমাংসা ৭০ হাজার টাকা

নিজস্ব প্রতিনিধি মাসুদ চৌধুরী সাঈদ
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২১
  • ২৭ বার পড়া হয়েছে

মানিকগঞ্জের ধর্ষণের মীমাংসা ৭০ হাজার টাকা করোনা, মাদক ও ধর্ষণ তিনে মিলে এক মহামারী । এদের থামানো মুশকিল ।  করোনা প্রাকৃতিক ব্যাধি । এর প্রতিকার অনেকটাই কাছাকাছি । কিন্তু মাদক ও ধর্ষণ সামাজিক ব্যাধি । এটা হাতের কাছে থাকলেও থামানো অনেকটাই অসম্ভব । মাদক ও ধর্ষণ একশ্রেণীর ক্ষমতাসীনদের কাছে । মাত্র কয়েকদিন আগের কথা, মানিকগঞ্জ ঘিওর উপজেলার গোয়ালজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণি প্রতিবন্ধী ছাত্রী  শিবালয় উপজেলা শশী নাড়া গ্রামের মানিক মল্লিকের কন্যা মালেকা  আক্তার ।

গ্রামের মৃত রহিম মিয়ার পুত্র রাজীবের শিশু কন্যা মুখে ভাত গত ০৪/০১/২০২১ তারিখে অনুষ্ঠিত হয় । সেখানে মালেকার আর পরিবারের সকলেই রাজিবের বাড়ি দাওয়াত খেতে যায় । দুপুরে খাওয়া-দাওয়া শেষে বিকেল বক্স বাজিয়ে আনন্দ নিয়ে ব্যস্ত । সন্ধ্যার পর নেমে আসে অন্ধকার, আর সেই অন্ধকারে নেমে আসে প্রতিবন্ধী মালেকার জীবনে অন্ধকারের ভয়াল থাবা । কেড়ে নেয় তার নারীত্ব ।

শেষ রক্ষাও করতে পারেনি । একথা কার কাছে বলবে, বলতেও পারছি না, যন্ত্রণা সইতে পারছে না । ধর্ষক রিফাত ধর্ষণ শেষে যাওয়ার সময় মালে কাকে বলে গেছে এ কথা কাউকে বললে প্রাণে মেরে ফেলবো । ব্যথা-যন্ত্রণা কারো কাছে বলতেও পারছে না । দুদিন পর যন্ত্রনা সহ্য করতে না পেরে পাশের বাড়ির ভাবির কাছে সব খুলে বলে । এলাকাতে গুঞ্জনের সৃষ্টি হয় ।

ভুক্তভোগির বাবা মানিক মল্লিক জানতে পেরে ধর্ষক রিফাতের বাবা ঘিওর উপজেলার গোলাপ নগর গ্রামের বাহাদুর মিয়াকে বিষয়টি জানায়, প্রথমে বলে আমার ছেলে রিফাতের মাত্র পনেরো ষোলো বছর বয়স এ কাজ করতেই পারে না । পরবর্তীতে শশী নাড়া গ্রাম থেকে বাহাদুরের কাছে বেশ কয়েকবার ফোন যাওয়াতে তখন বিষয়টি আমলে নেয় বাহাদুর । পরে ঘিওর সিএনজি মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ নাজমুলের সাথে পরামর্শ করে এবং ওই গ্রামে এসে লোকজনের কাছে মীমাংসার জন্য ঘুরতে থাকে ।

গত ০৭/০১/২০২১ তারিখে শশী নাড়া গ্রামে রাজীবের বাড়ি গ্রাম্য সালিশে বসে । সালিসে ধর্ষক রিফাতের বাবা সিদ্ধান্ত নেয়, আমার ছেলের সাথে বিয়ে দিয়ে নিয়ে যাব । কিন্তু দুজনেই অপ্রাপ্ত বয়সের কারণে বিয়ে সম্ভব হয় না । পরে উথলি ইউনিয়ন পরিষদ এর চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান মাসুদ তার কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং চলে যায় ।

পরবর্তী গত ১২/০১/২০২১ তারিখে আবার ওই এলাকায় বাহাদুর লোকজন নিয়ে আসে । মানিক মল্লিক মামলা করতে সিদ্ধান্ত নেয় । বিষয়টি শিবালয় থানা জানতে পেরে থানার ফোর্স পাঠায় । পরে মালেকার, মা, বাবা, বাহাদুর ও নাজমুলকে থানায় নিয়ে যায় । থানা থেকে এলাকায় সমাধানের জন্য পাঠিয়ে দেয় । এলাকায় বসে মালেকার বাবাকে ৭০ হাজার টাকা দিয়ে মীমাংসা করে ও আপোষনামা করে শিবালয় থানায় জমা দেয়

অধিকাংশই দেখা যায় মাদকের কারণে ধর্ষণের শিকার হচ্ছে । আলোচিত ঘটনা ডোম মুন্না লাশ ধর্ষণ করেছিল । জানা যায় ডোমেরা নেশা অবস্থায় থাকে, তাদের মানসিক ভারসাম্য অনেকটাই সমাজের বাহিরে ।এ কারণ এরা মাদক ব্যবহার করে । সমাজ থেকে আগে মাদক দূর করতে হবে।  তাহলেই হয়তো ধর্ষন ঠেকানো সম্ভব । উথলি ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান মাসুম এর সাথে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি জানান, আমার কাছে এসেছিল আমি তাদের তাড়িয়ে দেই । এটা আমার মীমাংসা করা সম্ভব না । আপনারা মামলা করেন । আইনের বাহিরে যাওয়া সম্ভব না ।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
© All rights reserved © 2018 mcnewsbd24.Com
Customized by Mcnewsbd24.Com