মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
তিন দিনব্যাপী নানা আয়োজনে বরংগাইল গোপাল চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক মিলাদ মাহফিল সম্পন্ন। নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ রিটার্নিং কর্মকর্তাদের অবিলম্বে অব্যাহতির দাবি গুম সংক্রান্ত প্রতিবেদন তুলে ধরলো কমিশন সুপ্রিম কোর্ট নিয়ে অসত্য সংবাদ প্রকাশ করলে আদালত অবমাননার দায় নিতে হবে একইদিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট মানিকগঞ্জে মনোনয়ন যাচাই ঘিরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর হেনস্তার অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস। শিবালয়ে শীতার্ত ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে BHRC এর শীতবস্ত্র বিতরণ জয়শঙ্করের সফর রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে না দেখার পরামর্শ নতুন বইয়ে উচ্ছ্বাস প্রাথমিকের শিশুদের, অপেক্ষায় মাধ্যমিক শিক্ষার্থীরা স্ত্রীসহ বিপ্লব কুমারের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করার নির্দেশ

মানিকগঞ্জে বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ শেষ হবার আগেই ফাটল নিম্নমানের সামগ্রী ও অনিয়মে ক্ষোভে শিক্ষক-অভিভাবকরা

মোঃ (সেন্টু)
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৬৫৪ বার পঠিত

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বরাইদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবনটি নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই দেয়ালে ফাটল ধরেছে।

এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে-নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, শিডিউল বহির্ভূত কাজ ও নজরদারির ঘাটতির কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়ের নিচ তলা ও দ্বিতীয় তলার কাঠের দরজাগুলো অত্যন্ত নিম্নমানের। জালনার প্লেন সিট ও স্কয়ার বারও শিডিউল অনুযায়ী ব্যবহার করা হয়নি। বারান্দার রেলিং ভবন হস্তান্তরের আগেই দুলছে। অতিরিক্ত ক্লাসরুম নির্মাণ ও আসবাবপত্র সরবরাহের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। দ্রুত কাজ শেষ করে শিক্ষা কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা।

প্রকল্পে দেরি ও অনিয়মের অভিযোগ প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪–২০২৫ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ভবন নির্মাণের দায়িত্ব পায়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) ছিল কারিগরি সহযোগী। ১ কোটি ২৪ লাখ ৬ হাজার ৩৮৫ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ কাজের দায়িত্ব নেয় মেসার্স এসই এবং তোফাজ্জল জেবি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

২০২৪ সালের ১৩ মে কাজ শুরু হয়ে চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় অতিরিক্ত ৯ মাস সময় বাড়ানো হয়। তবুও কাজের গতি সন্তোষজনক নয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক জানান, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণে ভবনের বিভিন্ন অংশে কাজ চলাকালেই ফাটল দেখা দিয়েছে। এই বিষয়ে প্রকৌশলীকে জানালেও তা আমলে নেওয়া হয়নি।

ফাটল মেরামতেও কাজ হয়নি বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. সোহেল রানা বলেন, “ভবনের একাধিক স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগের পর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে কিছুদিন কাজ বন্ধ রাখা হয়েছিল।

কিন্তু উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল আলিম ফাটলকে ‘স্বাভাবিক’ উল্লেখ করে কাজ চালিয়ে যাওয়ার মত দেন। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানও প্রকৌশলী কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করে নিম্নমানের কাজ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।”

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো. বুলবুল হোসেন ফাটলের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “তিনটি কক্ষের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছিল, যা আমরা পুটিনের মাধ্যমে মেরামত করি। কিন্তু পরে আবার ফাটল দেখা দিয়েছে।”

প্রকৌশল বিভাগের বক্তব্য উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইমরুল হাসান বলেন, “ভবনের ফাটল ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ পেয়েছি। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে ইতিমধ্যে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের দাবি অভিভাবক ও এলাকাবাসীরা বলেন, সরকারি বরাদ্দে নির্মিত বিদ্যালয় ভবন শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য তৈরি হচ্ছে। সেখানে যদি নির্মাণকালে ফাটল দেখা দেয়, তাহলে ভবিষ্যতে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবনের গুণগত মান নিশ্চিত করে দ্রুত শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ভবন হস্তান্তরের দাবি জানান তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
Registration number-p-35768