মানিকগঞ্জে বাউল শিল্পী আবুল সরকারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ ওঠার পর তাকে গ্রেফতার এবং জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার মুক্তি ও বিপক্ষে শাস্তির দাবিতে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
রবিবার সকালে মানিকগঞ্জ শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তৌহিদী জনতা ও একদল আলেম-ওলামার বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে জেলা ডাকঘরের সামনে সমাবেশ করে। একই সময়ে ভিন্ন স্থানে আবুল সরকারের ভক্তরা তার মুক্তির দাবিতে মানববন্ধনের আয়োজন করে। এতে শহরের বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
জানা গেছে,উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের পাশে হামলা ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের ৭ জন আহত হয়েছে।
আহতরা হলেন-সিংগাইর উপজেলার তালেবপুর গ্রামের আরিফুল ইসলাম। হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকার এলাকার জহুরুল ইসলাম ও শিবালয় উপজেলার সাঁকরাইল গ্রামের আব্দুল আলিম।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,হামলার সময় তৌহিদী জনতার পক্ষের মাওলানা আব্দুল আলীম নামের এক মাদ্রাসা শিক্ষকও আহত হয়। এছাড়া হামলার শিকার আরো কয়েকজন দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়,দুই পক্ষের কর্মসূচির কারণে উত্তেজনার আশঙ্কা থাকায় আগে থেকেই তাদের আলাদা সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। তবে বিক্ষোভ চলাকালে বিচ্ছিন্নভাবে হামলা হয়। আহতদের উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য,গত বৃহস্পতিবার মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় এক গানের আসরে ‘ইসলাম ধর্ম ও আল্লাহকে নিয়ে কটূক্তি’র অভিযোগে বাউল শিল্পী আবুল সরকারকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ ডিবি। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। তিনি সাটুরিয়া উপজেলার পারতিল্লী এলাকার বাসিন্দা।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: কামাল হোসেন জানান,এ ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন জন্য প্রক্রিয়া দিন আছে।
মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার মোচ্ছা: ইয়াসমিন খাতুন বলেন,ঘটনাস্থলের পাশেই পুলিশ মোতায়েন ছিল। দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।